সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের খুন করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ওই সময় মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ। বিস্ফোরণের পরপরই নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নাবিলা তাসনিদ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
বিস্ফোরণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, “স্পষ্টভাবে আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফুটিয়েছে। আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রা বন্ধ করার জন্য বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এই সরকারকে, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই—জবাব দিতে হবে। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তার জবাব দিতে হবে।”
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই সভার দায়িত্বে যারা ছিল—পুলিশ প্রশাসন, ডিসি—কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে?”
নাহিদ ইসলাম জানান, ঘটনায় তাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। দ্রুত বিচার না হলে স্থানীয় প্রশাসন ও এমপিকে জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
“কোনো সন্ত্রাসীর ঠিকানা এই সাভারে হবে না। যারা গণহত্যাকারীদের প্রশ্রয় দেবে, যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনিদের প্রশ্রয় দেবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে,” বলেন তিনি।
এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবো, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব।”