জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রচণ্ড এই গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতেও লাখ লাখ মানুষকে চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি বিশাল ‘হিট ডোম’ বা তাপবলয় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। এর ফলে ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে গেছে। এখনো প্রায় ১৪ কোটি মানুষ সক্রিয় তাপ সতর্কতার মধ্যে রয়েছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে। সেখানকার জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র গরমের কারণে ১০টি কাউন্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৩০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। এদের অনেককে শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন বাড়িতে, সড়কে ও পার্ক করা গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

নিউজার্সি ছাড়াও ইলিনয় এবং মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য থেকেও মৃত্যুর খবর এসেছে। মিসিসিপির হিন্ডস কাউন্টিতে মিচেল রে কুলি (৭৪) নামের এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হওয়ার পর একটি গ্যাস স্টেশনের পেছন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই কাউন্টিতে মার্থা আইরিন (৮৩) নামের এক বৃদ্ধা নিজের বাগানে পড়ে যাওয়ার পর তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় থাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তীব্র গরমের কারণে শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। জাতীয় মল চত্বরে আয়োজিত একটি মেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যেখানে ৪৪ জন দর্শনার্থী গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জরুরি সেবা বিভাগ তাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ৫১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং ১২ জনকে হাসপাতালে পাঠায়।

আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কেন্দ্রস্থলটি এখন উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিম অঞ্চল থেকে সরে দক্ষিণ ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘন ঘন এমন চরম তাপপ্রবাহ প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর কোনো বিকল্প নেই। মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর (এনডব্লিউএস) জনগণকে প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ, সরাসরি সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলা এবং প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।