মঞ্চটা এবার সত্যিই শেষবারের মতো সাজানো। বয়স ৪১, পায়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্লান্তহীন দৌড়। সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই ঘোষণা দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—‘হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’

স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগালের মহাগুরুত্বপূর্ণ শেষ ষোলোর লড়াইয়ের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ, সমালোচনা আর ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সিআরসেভেন।

প্রথম ম্যাচের পর থিয়েরি অঁরি যখন বলেছিলেন, ‘দলের গোল দরকার, শুধু তোমার গোল নয়’, তখন থেকেই একাদশে রোনালদোর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে রোনালদো অবিচল। ২৩ বছর ধরে সমালোচকেরা তাকে ‘শেষ’ করে দিতে চেয়েও পারেনি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সতীর্থরা সব সময় তার পাশেই আছেন। বাকি দুনিয়া কী বলল, তা তার কাছে ‘মূল্যহীন আবর্জনা’।

বারবার আসা প্রশ্নের মুখে অবশেষে বিদায়ের সত্যকে মেনে নিয়ে হাসিমুখে রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’ তবে বুটজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্তটা একান্তই তার। সাংবাদিকদের উদ্দেশে রসিকতার সুরে বলেন, ‘আমি তখনই শেষ করব যখন আমি চাইব। তোমরা যখন চাইবে তখন নয়।’

বিশ্বকাপ ট্রফি না পেলে প্রাপ্তি অপূর্ণ থেকে যাবে কি না, এমন প্রশ্নে রোনালদো বলেন, ‘বিশ্বকাপ জিতলে আমি আরও বেশি ক্রিস্টিয়ানো হয়ে যাব না। আর না জিতলেও কম ক্রিস্টিয়ানো হয়ে যাব না। সোমবার যা-ই হোক, আমি ১,০০০ শতাংশ পরিষ্কার বিবেক নিয়ে মাঠ ছাড়ব।’

সমালোচকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমালোচনা থেকেই মানুষ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বেড়ে ওঠা যায়। তাকে প্রতিদিন আরও উন্নত করার পেছনে সমালোচকদের পরোক্ষ অবদান আছে।

স্পেনকে এবারের আসরের অন্যতম দাবিদার মেনে নিয়ে ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালকে পরামর্শ দেন রোনালদো। বলেন, ইয়ামালকে যত দ্রুত সম্ভব সমালোচনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপ রোনালদোর কাছে আবেগের দিক থেকেও ভিন্ন। এক বছর আগে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া সতীর্থ ডিয়োগো জোটার স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পুরো পর্তুগাল দল।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে চেনা হাসিতে রোনালদো বলেন, ‘ঈশ্বর চাইলে আগামীকাল যেন আমার শেষ ম্যাচ না হয়। তাহলে তোমরা আমাকে আরও একটু “মেরে ফেলতে” পারবে! চেষ্টা করে যাও।’

মাঠের ফল যা-ই হোক, ইতিহাসে রোনালদোর নাম লেখা হয়ে গেছে সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে।