ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের বাইরে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জনসাধারণের জন্য মোসাল্লা খুলে দেওয়ার আগেই শোকাহত মানুষের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকেই এখানে খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোমাইয়ে হামেদি বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এসেছি। তাই এভাবে অপেক্ষা করা কষ্টকর মনে হচ্ছে না।’
ইরানজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে হাজারো মানুষ তেহরানে আসছেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন। একই হামলায় তার মেয়ে, নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন। সামরিক উত্তেজনার কারণে দাফন কয়েকবার পিছিয়ে যায়। যুদ্ধবিরতির পর প্রায় চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজা ও দাফন হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ধর্মীয় নেতারা শ্রদ্ধা জানান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পরিবার ও ভারতের শিখ-হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান। ইরানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়ায় তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তেহরানের পর মরদেহ নেওয়া হবে কোম, নাজাফ, কারবালা হয়ে মাশহাদে। খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরান। খামেনির স্মরণে সাতদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান চলবে।