হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব তেলবাহী জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত ও অনুমোদিত পথ ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশ না মানলে ‘কঠোর সামরিক জবাব’ দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া যৌথ সামরিক কমান্ড এই সতর্কবার্তা দেয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজকে ঘিরে এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের নিয়ম না মানা, অনুমোদিত পথ থেকে সরে যাওয়া বা নৌচলাচলের নির্দেশনা অমান্য করলে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এতে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলেও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের জন্য ফি ছাড়া জাহাজ চলাচলের অনুমতিতে সম্মত হলেও, ইরান জানায় রুট নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে এবং পরে ফি নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এই ফি পরিকল্পনা মানবে না বলে জানিয়েছে। ওমান উপকূলে বিকল্প পথ চালুর চেষ্টাও চলছে।
এদিকে বুধবার (১ জুলাই) কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক বৈঠক হয়েছে। হরমুজের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সবুজ কাপড়ে ঢাকা কফিনের ছবি প্রচার করা হয়। শনিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি শুরু হবে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ দিয়ে অন্তত ২৫৮টি জাহাজ চলেছে। এর মধ্যে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালায়। যুদ্ধের আগে দৈনিক প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলত, এখন সেই তুলনায় কম। জাহাজগুলোকে হয় ইরানের শর্ত মানতে হচ্ছে, নয়তো ওমানের দিকের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি ঘণ্টায় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে রুট বদলাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়।