রাশিয়া সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বড় আকারে বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে বৃত্তি ছিল মাত্র ৬৫টি, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। ফলে আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থী রাশিয়ায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।

বুধবার (১ জুলাই) রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা আয়োজিত অর্ধবার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই বাংলাদেশ ও রাশিয়ার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় গণমাধ্যম প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও যুব কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রাশিয়ান হাউসের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ এবং দুই দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যুব সহযোগিতার নতুন দিকগুলো তুলে ধরা হয়। মস্কো থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন রাশিয়ায় তার পড়াশোনা, আবাসন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অভিজ্ঞতা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাশিয়ান সরকারের অর্থায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও বিনিময় কর্মসূচিতে বিনামূল্যে অংশ নিতে পারছেন। এর অংশ হিসেবে ‘সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম ২০২৬’ ও ‘চিলড্রেন ফর পিস’ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

এ ছাড়া রোসআটমের ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে একজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন। তারা রাশিয়ার পারমাণবিক আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরুতে সম্পূর্ণ অর্থায়নে বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক একাডেমিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথাও উঠে আসে।

সমাপনী পর্বে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান দূতাবাসের অ্যাটাশে ও প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা রাশিয়ার বহুজাতিক সমাজ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে উপস্থাপনা দেন। শেষে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাশিয়ার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়।