গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই শার্ট আর খাকি প্যান্টে ফিরল বাংলাদেশ পুলিশ। গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংস্কারের অংশ হিসেবে পোশাকে বড় পরিবর্তন এসেছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর আবার সেই পোশাক বদলের সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার (১ জুলাই) থেকে পুলিশ সদস্যদের নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা জোরদার করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে তাকে গাঢ় নীল শার্ট ও খাকি প্যান্টে দেখা যায়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ পরেছিলেন হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্ট।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ জানান, আজ থেকে নতুন পোশাক পরা শুরু হয়েছে। তবে এখনো সবাই পাননি। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য নতুন ইউনিফর্ম পাবেন। যারা পেয়েছেন তারা নতুন পোশাকেই মাঠে আছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এরপর ২০ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি পোশাক বদলের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন শার্ট করা হয় লোহা-ধূসর, প্যান্ট কফি-বাদামি ধূসর। গত বছরের ২৫ নভেম্বর ওই পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।

তবে ওই রঙ নিয়ে মাঠপর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। অনেকে সহজে মেনে নিতে পারেননি। নতুন সরকার আসার পর আবার পোশাক বদলের দাবি ওঠে। এরপর গত ১৮ জুন পুলিশ সদর দপ্তর নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে শার্ট-প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারী পুলিশের পোশাক, হিজাব ও পূর্ণহাতা পোশাকের রঙে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। লোহা-ধূসর শার্টের বদলে এখন নীল শার্টের ওপর গাঢ় নীল ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত হয়েছে।

নতুন নিয়মে, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্য ইউনিটের প্যান্ট হবে খাকি টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল টিসি প্লেইন ফেব্রিকের। শার্টের সামনে চারটি পকেট ও সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।

নারী পুলিশের জন্য শাড়ির বিধান রাখা হয়েছে। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ, মহানগর পুলিশে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই ব্লাউজ পরা যাবে। চাইলে অনুমোদিত গাঢ় নীল হিজাব পরা যাবে। ট্রাফিক ইউনিটের নারী সদস্যরা সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় ইউনিটপ্রধানের অনুমতি নিয়ে সাধারণ পোশাক পরার সুযোগ থাকছে।

মৌসুমভেদে শার্টের ধরনও ঠিক করা হয়েছে। গ্রীষ্মে অর্ধহাতা, শীতে পূর্ণহাতা শার্ট পরতে হবে।