জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে নতুন অস্থিরতা বা বিপ্লবের প্রেক্ষাপটও তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটে কিছু পণ্যের ওপর কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে এর সুফল বাজারে দেখা যেতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল সমস্যা সম্পদের ঘাটতি নয়, দৃষ্টিভঙ্গি ও সততার ঘাটতি।
তার অভিযোগ, জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করেনি। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যেসব কারণে আগে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো বহাল থাকলে অভ্যুত্থান কেন হয়েছিল সে প্রশ্ন ওঠে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে আবার বিপ্লবের দরকার হতে পারে। এটি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য।
বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থের প্রকল্প। এতে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
প্রতিবেশী দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় স্বার্থে তিস্তা প্রকল্প করব। এতে বন্ধুরা খুশি হলে ভালো। কেউ অসন্তুষ্ট হলেও আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়বে না।
সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, নরম বা গরম রাজনীতি নয়, যৌক্তিক ও গঠনমূলক অবস্থান থেকে বিরোধীদল কথা বলবে। সরকার একাই সব পারবে ভাবলে ভুল করবে।