আজ ১ জুলাই, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্ণ হলো। ২০১৬ সালের এই দিনে পাঁচ জঙ্গি রেস্তোরাঁয় ঢুকে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়।
ঘটনার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নব্য জেএমবির সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড নামঞ্জুর করে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের ১৭ জুন হাইকোর্টের ২২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ছয় আসামি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেছেন। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে আসামি আসলাম হোসেন নিহত হন।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিচারকস্বল্পতাসহ নানা বাস্তবতার কারণে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে এই মামলাটি দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগী হবে। তিনি কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও এই সাত আসামি ষড়যন্ত্র ও হামলায় সহায়তা করেছেন, যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইন যথাযথভাবে উপলব্ধি না করে ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, যা সঠিক নয়। এ কারণে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।