২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে রূপকথার যাত্রা থামেনি নরওয়ের। ডালাস স্টেডিয়ামে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। জয়সূচক গোলটি করেন আর্লিং হালান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের সামনে ব্রাজিল।
প্রথমার্ধে হালান্ডের ভাগ্য খারাপই ছিল। তিন মিনিটে তার হেড ব্লক হয়। বিরতির ঠিক আগে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডার। মাঝে তার হেড সেভ করেন প্রতিপক্ষ কিপার।
তবে হালান্ড গোল না পেলেও নরওয়ে এগিয়ে যায়। ৩৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসা বক্সের বাঁ দিকে জায়গা বের করে ডান পায়ের শটে ফোফানাকে পরাস্ত করেন। এ গোলে বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন তিনি। ১-০ তে এগিয়ে বিরতিতে যায় ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলা দলটি।
আইভরি কোস্টও সুযোগ তৈরি করেছিল। ২১ মিনিটে ঘিসলাইন কোনানের শট বাইরের জালে লাগে। ২৮ মিনিটে নিকোলাস পেপের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে এমানুয়েল আগবাদুর শট ঠেকান নরওয়ে কিপার ওরহান নাইলান্ড।
৫৫ মিনিটে পেপের শট দুর্দান্তভাবে ফেরান নাইলান্ড। এটাই ছিল আইভরি কোস্টের সেরা সুযোগ। দুই মিনিট পর ফ্রাঙ্ক কেসির শটও নাইলান্ড রুখে দেন।
৬৭ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ নষ্ট করে নরওয়ে। কর্নার থেকে সরলথের ফ্লিকে হেগেমের চার গজ দূর থেকে নেওয়া ভলি গোললাইনে ঠেকিয়ে দেন আমাদ দিয়ালো।
৭৪ মিনিটে সমতায় ফেরে আইভরি কোস্ট। ডান দিক থেকে ঢুকে পেপের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে দিয়ালো কোণাকুণি শটে নাইলান্ডকে পরাস্ত করেন।
তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি। ৮৬ মিনিটে অস্কার ববের পাস থেকে প্যাট্রিক বার্গের কাট-ব্যাকে কাছ থেকে আলতো টোকায় গোল করেন হালান্ড। নরওয়ের জার্সিতে ৫৩ ম্যাচে এটি তার ৬০তম গোল, আর চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চম।
৯৬ মিনিটে নাইলান্ড দলকে বাঁচান। দিয়ালোর ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি কিক উড়ে গিয়ে বাঁ হাতে বারের ওপর দিয়ে বের করে দেন তিনি।
ম্যাচে আইভরি কোস্ট ১৪টি শট নিলেও নরওয়ের ৯ শটের বিপরীতে গোলকিপার নাইলান্ডের চারটি সেভই পার্থক্য গড়ে দেয়।
আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে।