জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

কর্মসূচি ঘোষণার আগে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষার্থী, ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ধনী-গরিব, বাবা-মা সবাই এই অভ্যুত্থানে ছিলেন। জুলাইয়ের প্রতিটি দিনই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা ৫ আগস্টের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে গিয়েছিলাম। সেই পুরো জুলাইকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি দিনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছি।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, জুলাই মাসজুড়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, গণসংযোগ, শহীদদের স্মরণ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ দিন ও ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

৩৬ দিনের কর্মসূচি:

• ১ জুলাই: রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারত। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনসমূহের সংহতি সভা। ‘জুলাই থেকে জনপদে বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নে’ মাসব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা।

• ২-৮ জুলাই: দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন ও ব্যানার-ফেস্টুনে ‘জুলাই জাগরণ’।

• ৫-৯ জুলাই: জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট।

• ১০ জুলাই: ‘বাংলাদেশি সংস্কৃতির পরিবর্তিত অভিমুখ: লেখক-বুদ্ধিজীবীর দায়’ শীর্ষক আলোচনা।

• ১৪ জুলাই: জুলাই নারী সমাবেশ।

• ১৫ জুলাই: ‘কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।’

• ১৬ জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাত।

• ১৭ জুলাই: ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল।

• ১৮ জুলাই: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডে।

• ১৯ জুলাই: ‘উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই’ স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

• ২০ জুলাই: ‘জুলাইয়ের যাত্রাবাড়ী: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা।’

• ২২ জুলাই: ‘সাদা অ্যাপ্রনের সাহস ও জুলাইয়ের অদৃশ্য বীরেরা।’

• ২৩ জুলাই: ‘আহতের কণ্ঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও যন্ত্রণার দিনলিপি।’

• ২৪ জুলাই: জুলাই যুব কনভেনশন ও ‘অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা।’

• ২৫ জুলাই: শ্রমিক সমাবেশ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।

• ২৬ জুলাই: ‘সাদা পোশাকের জালিম’ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা।

• ২৭ জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও উদ্যোক্তার বাংলাদেশ।

• ৩০ জুলাই: ‘ফিরে দেখা জুলাই’ ও ‘হ্যাশট্যাগ থেকে গণঅভ্যুত্থান।’

• ৩১ জুলাই: ‘স্মৃতিতে জুলাইয়ের ক্যাম্পাস’ শিক্ষকদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা।

• ১ আগস্ট: ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম’ ও ‘সংবাদে গণঅভ্যুত্থান।’

• ২ আগস্ট: জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা, গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিস্বর ও জুলাই স্মরণিকা প্রকাশ।

• ৩ আগস্ট: ‘জনতার এক দফা।’

• ৪ আগস্ট: ‘শ্রদ্ধা, স্মৃতি ও প্রতিশ্রুতি’ আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়।

• ৫ আগস্ট: বিজয়ের উল্লাস।

এ ছাড়া ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাসব্যাপী এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে প্রবাসেও জুলাই কর্মসূচি পালন করা হবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক হিসেবে আছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং সদস্য সচিব আলী আহসান জুনায়েদ। কমিটিতে আরও আছেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আকরাম হোসাইন সিএফ, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সাইফ মোস্তাফিজ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, জহিরুল ইসলাম মূসা, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, মাহিন সরকার, লুৎফর রহমান, তাহসিন রিয়াজ, ইয়াসির আরাফাত, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, জাহিদ আহসান, আবু বাকের মজুমদার, ইসহাক সরকার, ডা. আব্দুল আহাদ, মাজহারুল ইসলাম, সাদিয়া ফারজানা দিনা, ঋয়াজ মোরশেদ, ফরহাদ সোহেল, রিফাত রশিদ, মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সাইয়েদ জামিল ও আকরাম হোসাইন রাজ।