যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে নারী সাংবাদিক ই জিন ক্যারলকে পাঁচ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাঁকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

সোমবার (২৯ জুন) সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আবেদন শুনতে রাজি হননি। তিনি যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ক্যারলের পক্ষে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এর ফলে ২০২৩ সালে দেওয়া পাঁচ মিলিয়ন ডলারের রায় বহাল থাকছে।

ক্যারল ২০১৯ সালে প্রথম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে ২০২২ সালে নিউইয়র্কে নতুন আইন চালু হলে তিনি আবার মামলা করেন। ওই আইনে যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা পুরোনো ঘটনার জন্যও দেওয়ানি মামলা করতে পারেন।

আইনি জটিলতায় ২০২২ সালের মামলাটি আগে আদালতে ওঠে। সেই মামলায় জুরি বোর্ড ক্যারলের পক্ষে রায় দিয়ে ট্রাম্পকে পাঁচ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এরপর ২০১৯ সালের মানহানির মামলার বিচার হয়। সেই মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮৩ মিলিয়ন ডলারের রায় আসে। সুদসহ ক্যারলকে ট্রাম্পের মোট পাওনা ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

অভিযোগ ও ট্রাম্পের অবস্থান
ক্যারলের ২০২২ সালের মামলায় অভিযোগ ছিল, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেন এবং পরে ঘটনাটি অস্বীকার করে তাঁর মানহানি করেন।

ট্রাম্প শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। তাঁর দাবি, মামলার বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক লুইস কাপলান বিচারপ্রক্রিয়ায় কয়েকটি ভুল করেছেন।

ট্রাম্পের আইনজীবীদের অভিযোগ, বিচারক এমন দুই নারীর সাক্ষ্য নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন যারা আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। পাশাপাশি ২০০৫ সালের ‘অ্যাকসেস হলিউড’ টেপ জুরিদের দেখানোর অনুমতিকেও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। ওই অডিওতে ট্রাম্পকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা মামলায় প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলস জুরির পাঁচ মিলিয়ন ডলারের রায় বহাল রাখে। আদালত জানায়, বিচারক এমন কোনো ভুল করেননি যার জন্য নতুন বিচার দরকার।

২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্প পূর্ণ বেঞ্চে মামলাটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেও ব্যর্থ হন। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেন, একজন দায়িত্বরত প্রেসিডেন্টকে পুরোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে রাষ্ট্রীয় কাজ থেকে মনোযোগ সরাতে হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ক্ষতিকর।

তবে ক্যারলের আইনজীবীরা বলেন, দ্বিতীয় সার্কিট আদালতের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং জুরি যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছে।

দ্রুত অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা
জুরি রায় দেওয়ার পর ২০২৩ সালে ট্রাম্প ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আদালতের নিয়ন্ত্রিত একটি হিসাবে জমা করেছিলেন। ফলে ক্যারল তুলনামূলক দ্রুত এই অর্থ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া ৮৩ মিলিয়ন ডলারের রায়ের বিষয়টি এখনও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ আছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা শিগগিরই ওই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করতে পারেন বলে জানা গেছে।

সূত্র: সিএনএন