রাউন্ড অব ৩২-এ স্বাগতিক কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হারের পর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস। তবে ৭৪ বছর বয়সী এই কোচ সিদ্ধান্তটি আবার পুনর্বিবেচনা করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ব্রুস বলেন, হতাশ অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই আমি এখনই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। বিশ্বকাপের আগে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, স্ত্রী, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চাই।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্রুস এখন দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। সূত্রটি জানায়, হুগো হয়তো প্রধান কোচ হিসেবেই থাকবেন অথবা অন্য কোনো ভূমিকা নেবেন। যেমন স্কাউটিং কিংবা ইউরোপে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড়দের ওপর নজর রাখা।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে নতুন করে গড়ে তোলার কৃতিত্ব ব্রুসের। একসময় দলটি ‘হাস্যরসের পাত্র’ হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁর অধীনেই ১৬ বছরের দীর্ঘ বিরতি ভেঙে দলটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

২০২১ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় জোহানেসবার্গে বতসোয়ানার বিপক্ষে ‘বাফানা বাফানা’র একটি গোলশূন্য প্রীতি ম্যাচ দেখতে ২০০ জনেরও কম দর্শক এসেছিল। অথচ উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার আগে কেপটাউনে পানামার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৫০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।

এরপর গত সপ্তাহে ব্রুসের কৌশলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ এ’-তে ঐতিহাসিক জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এর ফলে আগের তিনবার প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেওয়ার পর এবারই প্রথম তারা নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তবে ম্যাচের ৯২তম মিনিটে কানাডার স্টিফেন ইউস্তাকিও জয়সূচক গোল করেন।

ব্রুস বলেন, আমি বহুবার বলেছি আধুনিক ফুটবল শুধু কৌশলের খেলা নয়। এতে শক্তি ও গতির প্রয়োজন, যা আমাদের দলে এখনও পুরোপুরি নেই। কানাডার দলে সেই গুণগুলো ছিল।

বিশ্বকাপ মিশন শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা আগামী বছর অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের বাছাইপর্বে অংশ নেবে।