প্রায় তিন দশক অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসেছে নরওয়ে। আর ফিরে এসেই নিজেদের শক্তির জানান দিল ইউরোপের দলটি। গ্রুপ ‘আই’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে আর্লিং হলান্ডের দল। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের লাগাম নিজেদের হাতে রাখে নরওয়ে। বলের দখল, গতি আর আক্রমণের ধার, সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। তবে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ভাইকিংরা। অবশেষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। ৪৩তম মিনিটে মার্কাস পেডেরসনের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। দীর্ঘ সময়ের চাপের পর পাওয়া গোলটি ম্যাচের গতিপথও অনেকটাই বদলে দেয়।

বিরতি থেকে ফিরেই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে নরওয়ে। ৪৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরলিং হলান্ড। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে ভুল করেননি বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার। দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি সেনেগাল। ৫৩তম মিনিটে ইসমাইলা সার গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন। আফ্রিকার প্রতিনিধিদের সমর্থকদের মাঝেও তখন নতুন আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র পাঁচ মিনিট পরই আবার আঘাত হানেন হলান্ড। ৫৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করে নরওয়ের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ গোল, যা তাকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

ম্যাচের শেষভাগে আবারও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে সেনেগাল। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। তার জোড়া গোলে কিছুটা উত্তেজনা ফিরলেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরানোর মতো সময় বা সুযোগ কোনোটাই পায়নি আফ্রিকার দলটি।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নরওয়ের ফুটবলাররা। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টানা দুই ম্যাচ জিতে তারা শুধু নকআউট পর্বই নিশ্চিত করেনি, নিজেদের সামর্থ্যের কথাও জোরালোভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের আগে অনেকের চোখে গ্রুপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে বিবেচিত সেনেগাল টানা দুই ম্যাচে হেরে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও এখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ফলাফলের দিকে।

গ্রুপ ‘আই’-এ দুই ম্যাচ শেষে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। সমান সংখ্যক পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে নরওয়ে। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচ হেরে পয়েন্টশূন্য অবস্থায় রয়েছে সেনেগাল। এদিকে ইরাকও নিজেদের দুই ম্যাচেই হেরে এখনও কোনো পয়েন্টের দেখা পায়নি। তবে গোল ব্যবধানে এদিয়ে থাকায় ইরাকের তুলনায় সেনেগালের সামনে সুযোগ বেশি নকাউট রাউন্ডে পৌঁছানোর। তবে সে ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে সাদিওমানেদের জিততেই হবে আর ইরাককে পইয়েন্ট খোয়াতে হবে।