পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর সোমবার (২২ জুন) পেশ হলো প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আর এই প্রথম বাজেটেই সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে এক ধাক্কায় বরাদ্দ প্রায় ৬১ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই খাতের জন্য মোট ২ হাজার ১৬৫ দশমিক ৪২ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার তাদের বাজেটে এই খাতের জন্য বরাদ্দ করেছিল ৫ হাজার ৭১৩ কোটি রুপি।
অর্থাৎ, চলতি অর্থবর্ষে সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা খাতে বরাদ্দ মোট ৩ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এই খাতের আওতায় মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদান, সংখ্যালঘু যুবক-যুবতীদের স্কলারশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি চলে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬১৪টি সরকার স্বীকৃত মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে আনুমানিক সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ফলে এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ ছাঁটায়ের প্রভাব সরাসরি এই শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে নতুন সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বাজেটে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য করা হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনজাতি, চা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এক মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা সবার জন্য উন্নয়ন চাই। কিন্তু যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকেও আধুনিকীকরণ করা হবে, শুধু অন্ধকারে রাখা হবে না।”
এদিকে আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকির অভিযোগ, সংখ্যালঘু যুবকদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় কয়েক লাখ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে। হঠাৎ করে এতটা বরাদ্দ কমানো তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলবে।
তবে তিনি আরো বলেন, “তৃণমূল সরকার ৫ হাজার ৭০০ কোটি রুপির বেশি বরাদ্দ করলেও তার অর্ধেকের বেশি অর্থ তারা খরচ করতে পারত না। যেটুকু অর্থ খরচ হতো তার অনেক অংশ অপব্যয় হতো। ৫০ শতাংশ বেশি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় অন্যান্য খাতে এই অর্থ খরচ করা হতো।” নতুন সরকারের এই ধরনের অপব্যবহার রোধ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের নেতারা বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি এই বাজেট ‘প্রতিশোধমূলক’। সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক গোলাম রাব্বানী বলেন, “এই বাজেটে আমরা খুবই হতাশ। পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
বাজেট পেশ পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর বিধানসভার প্রেস কর্নারে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্য বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নতুন সরকারের এই বাজেটকে পরিকাঠামোগতভাবে ‘সম্পূর্ণ দিশাহীন’ বলে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন।
পরিকাঠামো খাতে সুস্পষ্ট রূপরেখার অভাব এবং সংখ্যালঘু উন্নয়নের বাজেটে অভাবনীয় হারে বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ঋতব্রত।