মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অবসানে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতির পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

রবিবার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান সোমবার ২২ জুন ২০২৬ এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন-তেহরানের বৈঠক ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রযুক্তিগত আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট মেকানিজম তৈরি সহ বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে।

গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে উভয় পক্ষ একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি মধ্যস্থতার রাজনৈতিক তদারকি করবে। প্রধান আলোচনাকারীরা নিয়মিত কমিটির কাছে রিপোর্ট করবেন এবং পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের নেতৃত্ব দেবেন।

লেবাননে চলমান সামরিক সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের মধ্যে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন’ সেল গঠনেও সম্মত হয়েছে পক্ষগুলো।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ‘প্রধান অগ্রগতি’ বলেছেন। তিনি জানান, তেহরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ছাড়, বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার, কিছু অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তি এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা চালুর আশ্বাস পেয়েছে।

এক্স-এ দেওয়া পোস্টে আরাঘচি বলেন, লেবাননে ডি-কনফ্লিকশন মেকানিজমটি হবে এই চুক্তির ‘প্রথম বাস্তব পরীক্ষা’।

একজন সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিক জানান, ইরান আলোচনা ছেড়ে চলে গেছে এমন প্রতিবেদন সঠিক নয়। পারমাণবিক চুক্তির সব উপাদান নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা ও দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়েও কাজ হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের অধীনে, উভয় পক্ষ অন্তত ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি টোল-মুক্তভাবে খুলে দিতে এবং লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডে পুরো সপ্তাহ জুড়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলবে। লক্ষ্য ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি।