লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে ইরান ফুটবল দল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শেষেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় ইরানকে। এর আগে তারা লকার রুমে চিঠি রেখে যায়। পরে ইরান ফুটবল ফেডারেশন সেই চিঠির ছবি প্রকাশ করে।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘হাজার হাজার বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের চেতনা জীবন্ত ও অটল রয়েছে। ধন্যবাদ লস অ্যাঞ্জেলেস, আপনাদের আতিথেয়তার জন্য। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম গর্ব নিয়ে, সম্মানের সঙ্গে লড়েছি এবং এখন মর্যাদা নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছি।’
সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রত্যেক ইরানিয়ানকে ধন্যবাদ, যারা তাদের হৃদয়, আওয়াজ এবং প্রাণ দিয়ে ১৮০ মিনিট আমাদের সমর্থন দিয়েছে। প্রত্যেক দেশের মাঝে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’

ওই চিঠিতে লাল কালিতে ‘৭৬৮’ এবং ‘মিনাব’ও উল্লেখ করে ইরান। মিনাব স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় প্রায় ১৭০ শিশু প্রাণ হারিয়েছিল।
রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নিলেও তাদের বেসক্যাম্প মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। ম্যাচের আগেরদিন ভেন্যু শহরে গিয়ে খেলা শেষেই তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়।
রোববার ২১ জুন ২০২৬ দিবাগত রাতে ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ ০-০ গোলে ড্র করে ইরান। গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের বীরত্বে এক পয়েন্ট পায় তারা।
টানা দুই ম্যাচ ড্র করে নকআউটের আশা টিকিয়ে রেখেছে ইরান। বেলজিয়াম ম্যাচের পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলেও মিসর ৩-১ গোলে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শীর্ষে উঠে যায়।