মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার পেলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় পুত্রজায়ায় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবন প্রাঙ্গণে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে স্বাগত জানান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

অভ্যর্থনার পর ভবনের পঞ্চম তলায় দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে বসেন। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এতে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম।

বৈঠকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে যেতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। যৌথ কমিশনের বৈঠক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও বাড়ানো হবে।

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি জনগণের অপ্রতিরোধ্য সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।

এ সময় ১৯৭৯ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি।