যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির তিন দিনের মাথায় আবারও উত্তেজনা। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এবার প্রণালী খুলতে দুই শর্ত দিয়েছে তেহরান।
রোববার (২১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর এবং চুক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না। একই সঙ্গে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ বন্ধ থাকবে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্যবর্তী এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আনা-নেওয়া হয়। প্রণালী বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ‘লেক লুসার্ন শীর্ষ সম্মেলন ও উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠক’ শুরু হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
কাতার বলছে, এই বৈঠক একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির সব বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিও জানিয়েছে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ সম্পদ সচল করার বিষয়ে সুইজারল্যান্ডে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক চলছে।