মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এক সরকারি সফরে রোববার বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিকেলে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীনে যাবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দুই দেশ সফরের আগে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, ‘এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।’
পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে। এতে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। ‘আমরা এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি,’ বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিবের মতে, এই সফরগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সামার দাভোস ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৬ জুন রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।