যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির তিন দিনের মাথায় আবারও অস্থিরতায় মধ্যপ্রাচ্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ ও নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
শনিবার (২০ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এ ঘোষণা দেয় ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। খবর রয়টার্সের।
বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান যৌথ অপারেশনাল কমান্ড জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলাকেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে তারা।
এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো আগ্রাসনমূলক ব্যবস্থা নিলে ইরানও পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মাঝে এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য যায় এই পথে। জাহাজ চলাচল স্থগিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা ও সরবরাহে বিঘ্নের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ফলে প্রণালী বন্ধের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।