ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক এডিসি ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ‘নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ স্থাপনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিবি গুলশান বিভাগে কর্মরত থাকাকালে সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে পরীমনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাকলায়েন, যা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তার জন্য শোভনীয় নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাকে অবসরে পাঠানোর সারসংক্ষেপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। ৯ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার তদন্ত তদারকিতে ছিলেন তৎকালীন এডিসি সাকলায়েন। পরে পরীমনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠলে তাকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা তদন্তে কমিটিও গঠন করা হয়।

তবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে ‘অস্বাভাবিক ও অন্যায্য’ বলেছেন পরীমনি। সে সময় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটা প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কের কারণে হয়েছে—আমি তা বিশ্বাস করি না। কেউ সফল হলে তাকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়। সাকলায়েন একজন দক্ষ ও সফল কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধেও এমন কিছু হতে পারে।’

সাকলায়েনের অবসরের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পরীমনি আরও বলেন, ‘সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাটি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।’