সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকারে দলীয়করণ করে অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে। এভাবে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৪৭, ৫২, ৭১ ও ২৪-এ যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে ২৪-এর শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।
২০২৪-এর আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালে নির্বাচন হয়েছে। ২৪ না হলে ২৬ সালে নির্বাচন হতো না। তাদের রক্ত ও ত্যাগের কারণেই আজকের সংসদ, সরকার, বিরোধী দল। শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি অবজ্ঞা করা নিজের সাথেই গাদ্দারি।
বিগত নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, হাজার জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালো টাকা উপেক্ষা করেও নারায়ণগঞ্জবাসী ১১ দলীয় ঐক্যকে একটি আসন উপহার দিয়েছে। ভোট গণনা সুষ্ঠু হলে অন্য আসনেও জয় হতো। সেই বিজয় ছিনতাই হয়েছে।
গণভোটের রায় প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ৬৬.৮ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। অথচ বর্তমান সরকার সেই জনরায় অস্বীকার করছে। নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইলেও এখন বলছে, ভোট পেতে এসব বলেছিল। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। যারা জনগণের রায় মানে না, তারা গণতন্ত্রকামী হতে পারে না।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সময় আছে ফিরে আসুন। জনগণের রায়কে সম্মান দিন। জোর করে শাসন চালাতে চাইলে জনগণ সামনে হিমালয় দাঁড় করিয়ে দেবে।
সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় কর্মীদের বসানো হয়েছে। জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক করা হয়েছে। এভাবে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে।
শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন, কিন্তু সাড়ে তিন বছরের বেশি থাকতে পারেননি—মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ একদলীয় শাসন মানে না। সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সংস্কৃতি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ। জনগণ এসব আর খায় না।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় বাজেট দিলে সমস্যা নেই। কিন্তু বিগত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরির পথ কি বন্ধ হবে? সরকার চাঁদাবাজদের হাত আটকাতে পারেনি। একজন চাঁদাবাজকেও শাস্তি দেয়নি। দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় এটাকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। শিল্পের রাজধানী ছিল। এখন গৌরব হারিয়েছে। মাঝে সন্ত্রাসের রাজধানী হয়েছে। ত্বকী হত্যার বিচার আজও হয়নি। এমন দফায় দফায় লাশ উপহার দেওয়া হয়েছে।
সরকারি দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জান্নাতের টিকেট কারা বিক্রি করেছে? যারা বলেছে, এই মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাবেন। অমুক নেতার নাম ১০০ বার নিলে জান্নাতে যাবেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা এসব বলেনি। চোরের মার বড় হওয়া।
মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জামায়াত বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব নেবে। কিশোর জীবন থেকে সৎ চরিত্র ধারণ করা মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছি।
তিনি আরও বলেন, ২৭টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নারায়ণগঞ্জবাসী সৎ, দক্ষ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক মানুষকে নেতা হিসেবে বেছে নেবে। অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ নেতাকর্মীরা।