মোস্তফা কামাল তোহা: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ১৯৭ রান। আধুনিক টি-টোয়েন্টির যুগে এই রান তাড়া করে জেতা অসম্ভব কিছু ছিল না, বিশেষ করে যখন দলের ব্যাটাররা ভালো শুরু পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

আর এই পরাজয়ের খলনায়ক হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে দলের অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলায়েনকে। বল হাতে রান বিলিয়ে দেদারসে খরুচে বোলিংয়ের পর, ব্যাট হাতেও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তার এই ‘অলরাউন্ড ব্যর্থতা’ই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে লাল-সবুজের দলকে।

টস হেরে প্রথমে বল করতে নেমে শুরু থেকেই দিশেহারা দেখিয়েছে সাকলায়েনকে। যেখানে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, সেখানে সাকলায়েন রান দিয়েছেন দেদারসে।৪ ওভারে কোনো মেইডেন ছাড়াই দিয়েছেন ৫৩ রান!

ওভারপ্রতি গড়ে ১৩.২৫ রান দিয়ে তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে খরুচে বোলার। টিম ডেভিডের উইকেটটি পেলেও, ততক্ষণে তার নির্বিষ বোলিংয়ের ফায়দা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ১৯৬ রানের পাহাড় গড়ে ফেলে।

১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান (১৫ বলে ৩০ রান) ও সাইফ হাসানের (৩৩ বলে ৪২ রান) ব্যাটে চড়ে বাংলাদেশ জয়ের পথেই ছিল। মিডল অর্ডারে ইমন ও হৃদয়ও দ্রুত রান তুলেছেন। কিন্তু ম্যাচের অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন দ্রুত রান তোলার দরকার ছিল, তখন ক্রিজে এসে পুরো ডট বলের মহড়া দিলেন সাকলায়েন।

ম্যাচ বাঁচানোর শেষ মুহূর্তে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ বল খেলে তিনি করতে পেরেছেন মাত্র ১৩ রান (অপরাজিত)। স্ট্রাইক রেট ছিল ওয়ানডের মতো মাত্র ১১৮.১৮! যেখানে শামীম হোসেনের বিদায়ের পর দলের হয়ে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে, সেখানে বাউন্ডারি মারার কোনো তাড়াহুড়োই তার ব্যাটে দেখা যায়নি।

একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অলরাউন্ডারদের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সাকলায়েন বল হাতে দিলেন ৫৩ রান, আর ব্যাট হাতে অতি মূল্যবান ১১টি বল নষ্ট করে করলেন মাত্র ১৩। অথচ বাংলাদেশ দল নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে গিয়ে থামে, অর্থাৎ মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে হার!

  1. সাকলায়েন যদি বোলিংয়ে কিছুটা রান চেপে রাখতেন কিংবা ব্যাটিংয়ের সময় ১১ বলের জায়গায় কার্যকর কিছু বাউন্ডারি হাঁকাতে পারতেন, তবে ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষেই আসত। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন ছন্নছাড়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পারফরম্যান্সের পর সাকলায়েনকে দলে রাখা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।