আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের সময় কুয়েতের ‘ক্যাম্প বুহরিং’ নামক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে চালানো এক দুঃসাহসিক অভিযানের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানি পাইলটেরা। তেহরানের আকাশসীমা রক্ষা ও পাল্টা আঘাতের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানের বিশদ বিবরণ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
অভিযানের কমান্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানে হামলা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়।
মার্কিন রাডার ফাঁকি দিতে ইরানি পাইলটরা চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও একদম নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কমান্ডার জানান, তারা এতটাই নিচু দিয়ে বিমান উড়িয়েছিলেন যে, কিছু কিছু জায়গায় তাদের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়ে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৫০ ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়ে যেতে হয়েছিল।
এছাড়া ছদ্মবেশে প্রতিবেশী কিছু দেশের জলসীমা অতিক্রম করার সময় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মাঝখানের সংকীর্ণ স্থান দিয়ে তারা তীব্র গতিতে বিমান নিয়ে কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেন।
বিবরণ অনুযায়ী, ইরানি যুদ্ধবিমানগুলো আকস্মিকভাবে ঘাঁটির ওপর চড়াও হয়ে লক্ষ্যবস্তুর একেবারে কাছাকাছি গিয়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। হামলায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ও অন্যান্য যুদ্ধসরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার দৃশ্য পাইলটরা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। ঘাঁটিতে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
এই আকস্মিক ও অভাবনীয় হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র বাহিনীর মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করে। উত্তেজনার একপর্যায়ে কুয়েতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রেরই তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে শত্রুভাবাপন্ন ভেবে লক্ষ্যবস্তু বানায় বলে দাবি করেন ওই কমান্ডার।
অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক পাইলট জানান, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিমানবাহিনীর সদস্যরা গভীরভাবে শোকস্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই প্রতিশোধের আগুনে উদ্বুদ্ধ হয়েই পাইলটরা নিজেদের জীবন বা সরঞ্জামের ঘাটতির পরোয়া না করে এই নিখুঁত ও দুঃসাহসিক অভিযান সম্পন্ন করেন।