আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ইরানের একাধিক সামরিক ও নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলাগুলো ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক ও আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া’। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাস অঞ্চলে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব এলাকায় সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার স্টেশন ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হামলা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের একটি ড্রোন হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। তবে হেলিকপ্টারে থাকা দুই মার্কিন সেনা সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা নিরাপদে রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তেহরান ইতোমধ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডোর। এ অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক তেলবাজার, নৌপরিবহন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ঘটনা ঘটেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন এ সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।