জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য বা প্রো-ভিসি (শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম।

শনিবার (৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর আর্টিকেল ১৩(১) অনুযায়ী তাকে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। অথবা অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যেটি আগে ঘটে। এ পদে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

এ ছাড়া তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক শামছুল আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি একইসঙ্গে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নির্বাচিত সভাপতি।

১৯৮৮ সাল থেকে তিনি সরকার ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামানের সাথে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে একটি তথ্যসূত্র গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। ‘সামরিক শাসনের সংকট ও রাজনৈতিক উন্নয়ন: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক তার ডক্টরাল গবেষণাটি শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ পেয়েছে।

তিনি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর পিএইচডি ও এমফিল মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রায়শই বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করেন।

অধ্যাপক শামছুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের প্রোভোস্ট, সরকার ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিবহন অফিসের প্রশাসক, উচ্চশিক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, পরীক্ষা অফিসের নিয়ন্ত্রক এবং নির্বাচিত সেনেটর ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা-গবেষণায় নিবেদিত প্রাণ এই অধ্যাপকের দেশি-বিদেশি জার্নালে ৩৩টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি কমপক্ষে ৪৫টি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছেন।