যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার সময় একই ভবনে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
লেবাননের টিভি চ্যানেল আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
আরাঘচি জানান, জেনেভার আলোচনা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে সেদিন সকাল ৯টায় তিনি খামেনির কার্যালয়ে যান। যুদ্ধ অনিবার্য—এ বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছিলেন তিনি। একটি কক্ষে অপেক্ষার সময়ই মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী ভবনে হামলা চালায়। সৌভাগ্যক্রমে তিনি যে অংশে ছিলেন সেটি ধ্বংস হয়নি। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে প্রথমেই খামেনির নিরাপত্তার খোঁজ করেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন।
আরাঘচি বলেন, ঘটনার পর ৪০ দিন তিনি বাড়ি ফেরেননি, মন্ত্রণালয়ে থেকেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সংকটের সময় খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। খামেনি বলেছিলেন, ‘ইরানের প্রতিটি মানুষ নিরাপদ আশ্রয় পেলেই কেবল আমি যাব। আমার জনগণের ভাগ্যে যা ঘটবে, আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালায় ইসরায়েল। প্রথম ধাক্কাতেই খামেনি, তার পরিবারের সদস্য, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হন। হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পাল্টা হামলায় ইরান, হিজবুল্লাহ ও হুতি বাহিনী ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে। টানা ৩৮ দিন সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়।