আদালত প্রতিবেদক | রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং একই সাথে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে এই শুনানি শুরু হয়। দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে আদালত মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিন ধার্য করেছেন।

‘আমিও দোষ করছি… আমাকে সাজা দেন’

আদালত সূত্র জানায়, সকালে কড়া নিরাপত্তায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান।

এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল রানার কাছে কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি আদালতকে বলেন:

“আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন। ওকে কেউ দেখে নাই, ওরে ধরেন স্যার। আমার একটা ছওয়াল (ছেলে) আছে। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার, আমাকে মাফ করে দেন।”

সোহেল রানা আরও বলেন, “আমার বউ কোনো দোষ করে নাই, সে নির্দোষ।” এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতে বলেন।

স্ত্রীকে আদালতের সতর্কবার্তা

এরপর আদালত মামলার দ্বিতীয় আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বক্তব্য শুনতে চান। ঘটনার দিন দরজা কেন খোলেননি? আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বপ্না প্রথমে নিশ্চুপ থাকেন। পরে আদালত তাকে সতর্ক করে বলেন, “আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে, আইন অনুযায়ী একই শাস্তি আপনারও হতে পারে। এ বিষয়ে আপনার কোনো ব্যাখ্যা আছে?” জবাবে স্বপ্না বলেন, “আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।”

১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড ও জেরা সম্পন্ন করার মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা, বড় বোন, ফুপু, চাচা, বাড়ির অন্যান্য বাসিন্দা, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৬ জন আদালতে পর্যায়ক্রমে জবানবন্দি দেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ সাক্ষীদের জেরা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।