ফেসবুক লাইভে এসে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রায় ৪৩ মিনিটের ওই লাইভে নিজ উপজেলা দেবীদ্বারে বরাদ্দ সংক্রান্ত বিভিন্ন হিসাব উপস্থাপনের পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৩১ মে) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লাইভে আসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
‘মিডিয়া মাফিয়ার আয়নাবাজি’ শিরোনামে ওই লাইভের শুরুতেই হাসনাত বলেন, ‘বাংলাদেশের মিডিয়া মাফিয়া কিভাবে কাজ করে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে লাইভে এসেছি। বাংলাদেশের মিডিয়া কিভাবে আপনার কনসার্নকে ম্যানুফ্যাকচার করে, আপনার মতামতকে প্রভাবিত করে আপনার অবচেতন মনে এক ধরনের ধারণা তৈরি করে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে, কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, কোনো বিশেষ আদর্শ সম্পর্কে।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপির পার্থক্য না বুঝে একজন রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অর্থ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
মাঝরাতের ওই ফেসবুক লাইভে ১৪৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার হিসাব দেন হাসনাত।
তিনি বলেন, ‘এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রশাসক রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন, মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘এখানে তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে আছে। এটি চাইলে যে কেউ দেখতে পারে। আমি আগেও যেসব বাজেটে এসেছে, সব হিসাব লাইভে এসে দিয়েছি।’
হাসনাত আরও বলেন, ‘১০ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে। আমি যখন নির্বাচিত হইনি, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব নিজস্বসহ সব মিলিয়ে আট কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রজেক্ট দেবীদ্বারে দেওয়া হয়েছে। এক টাকা কম না, এক টাকা বেশি না। ১৪৮টি খাতে এসব প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে। একটা প্রজেক্টও পূর্ণাঙ্গ কমপ্লিট হয়নি। এগুলো আপনারা অনলাইনে গেলেই দেখতে পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘অথচ জেলা পরিষদের প্রশাসক বললেন আমি ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছি। গত দুই দিন মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হলো আমরা টাকা নিয়ে গিয়েছি, টাকার কথা মানুষের কাছে লুকিয়েছি। এটা তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে। ইটস ভেরি ওপেন, ব্রড ডেলাইট ওপেন।’
কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যারা প্রপাগান্ডা করেছেন, আপনাদের যদি চর্মচক্ষু থাকে এবং একটু জ্ঞানবুদ্ধি থাকে শুধু ইন্টারনেটে সার্চ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। কোন খাতে কয় টাকা এবং কোন প্রক্রিয়ায় গেছে—চাইলেই সব কিছু বের করা সম্ভব।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমার এলাকার যতগুলা বরাদ্দ বাজেট এসেছে সম্প্রতি লাইভে সবগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছি। এমনটি আমার পেজ ‘জবাবদিহিতা’য় প্রতিনিয়ত আপডেট জানানো হয়। সবার বাসায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও ফেসবুক আছে। সার্চ করলেই যে কেউ ডিটেইল দেখতে পারেন। এখন এটাকে যেভাবে ফ্রেমিং করা হলো এটা খুবই দুঃখজনক।’
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এক অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যা দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। পরে ওই বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে ফোন করে জানতে চাইলে মোস্তাক মিয়া উন্নয়ন কাজে নেওয়া হয়েছে বলে জানান। কেউ ব্যক্তিগতভাবে সে টাকা নিয়ে গেছে সেটা তিনি বলেননি।