ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ জয়ের জন্য শেষ ১৩ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। হাতে তখনও ৫ উইকেট। একটি সিঙ্গেল নিলেই নিশ্চিত হতো শিরোপা। তবে বিরাট কোহলি যেন জয়ের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করেই রাখতে চেয়েছিলেন। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। আর তাতেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শিরোপা জিতে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)।

রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে গুজরাট টাইটানসকে ৫ উইকেট ও ১২ বল হাতে রেখে হারায় বেঙ্গালুরু। দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিরাট কোহলি। ৪২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এই তারকা ব্যাটার।

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে আরসিবি। কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ারের উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪ ওভারেই আসে ৬০ রান। তবে এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। ১৬ বলে ৩২ রান করে আউট হন আইয়ার। এরপর দেবদত্ত পাডিক্কাল, রজত পাটিদার ও ক্রুনাল পান্ডিয়াও সাজঘরে ফেরেন।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান কোহলি। ৯১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর টিম ডেভিডকে সঙ্গে নিয়ে ৪১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। ডেভিড ১৭ বলে ২৪ রান করে বিদায় নিলেও জিতেশ শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটুকু সহজেই শেষ করেন কোহলি।

এর আগে গুজরাট টাইটানসকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি বেঙ্গালুরুর বোলাররা। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউড, রাসিক সালাম ও ক্রুনাল পান্ডিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেনি গুজরাটের ব্যাটাররা।

রাসিক সালাম ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। ক্রুনাল পান্ডিয়া ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান খরচ করে নেন ১ উইকেট। এছাড়া হ্যাজলউড ও ভুবনেশ্বর কুমার দুটি করে উইকেট তুলে নেন।

গুজরাটের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩৭ বলের ইনিংসটি দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিলেও শেষ পর্যন্ত তা শিরোপা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

শেষ পর্যন্ত কোহলির অনবদ্য ইনিংস এবং বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে আরেকবার আইপিএলের মুকুট নিজেদের দখলে রাখল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।