দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জরুরি চিকিৎসা সেবার মান যাচাই, অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, আইজিপি, র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানে নাগরিকের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রের কর্তব্য জনগণের জন্য নিরাপদ, মানসম্পন্ন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার মান, বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, এনআইসিইউ এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
জনস্বার্থে নোটিশে ৮টি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে: দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ তদারকি ও অভিযান পরিচালনা; ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অগ্নিনিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও রোগী নিরাপত্তা যাচাই; আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, এনআইসিইউসহ সব ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের জনবল ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা; চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বৈধ নিবন্ধন ও যোগ্যতা যাচাই; অনুমোদনবিহীন বা মানহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা; আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন; তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।