ইউক্রেনে রকেট হামলায় নিহত বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের মরদেহ লাশবাহী গাড়িতে বাড়িতে পৌঁছেছে।
সোমবার (১৪ মার্চ) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।
হাদিসুরের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আত্মীয়-স্বজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। বাবা আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার বাকরুদ্ধ। মা আমেনা বেগম মুর্ছা যাচ্ছেন বারবার। একমাত্র বোন সানজিদা আক্তার শম্পার আর্তনাদ থামাতে পারছেনা কেউ। মেঝ ভাই তারেক গড়াগড়ি যাচ্ছেন মাটিতে। ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স এসেছেন লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল দশটায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় নিহত ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোয়া একটায় মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি বেতাগীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।
হাদিসুরের মরদেহ নিতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তার ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স, চাচা মিজানুর রহমান জীবন, খালা শিরিন আক্তার মমতাজ, খালাতো ভাই সোহাগ হাওলাদার। তাদের সঙ্গে এসেছেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন।
চলতি মাসের ২ তারিখে ইউক্রেনে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে রকেট হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান মারা যান। ৩ মার্চ অক্ষত অবস্থায় জাহাজটি থেকে ২৮ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদ বাঙ্কারে রাখা হয়। সেখান থেকে তাদের প্রথমে মলদোভা, পরে রোমানিয়া নিয়ে আসা হয়। গত ৯ মার্চ ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইউক্রেন থেকে ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও হাদিসুরের মরদেহ আনা সম্ভব হয়নি। তার মরদেহ ইউক্রেনে ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছিল। ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে ২৮ জন নাবিক নিয়ে আটকা পড়েছিল ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এই জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটি ইউক্রেন থেকে সিরামিকের কাঁচামাল নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে, যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর তারা আটকে পড়েছিলেন।