রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির যে দাবি উঠেছে এবং সরকারও বিষয়টি আমলে নিয়ে ন্যূনতম সময়ে বিচারকার্য সম্পন্নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারই মধ্যে মেহেরপুরে একই ধরনের চাঞ্চল্যকর এক মামলার রায় হলো মাত্র ২৯ দিনে।
মামলার ২৪ বছর বয়সি আসামি শাকিল হোসেনকে প্রাণদণ্ড দিয়েছেন জেলা শিশু সহিংসতা আদালত।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
২৯ কার্যদিবসের মধ্য সশরীরে ও ভার্চুয়ালি সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়। এত কম দিনে ধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এটি তৃতীয় রায়।
জানা মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ মামলার রায় হয় ছয় কার্যদিবসে। যেটি ছিল ২০২০ সালে বাগেরহাটে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ মামলার রায়। এরপর মাগুরার আলোচিত আছিয়া হত্যা মামলার রায় হয় মাত্র ১৪ কার্যদিবসে। তারপরই ন্যূনতম সময়ের হিসেবে তৃতীয় মামলার রায় হলো মেহেরপুরে। যেটি রায় হয়েছে ২৯ কার্যদিবসে।
দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দুল হাসানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ই জুন পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণ করেন শাকিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গাংনি থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। আদালত ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ভার্চুয়ালি ও সশরীরে গ্রহণ করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে ভুক্তভোগীর পরিবার সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বিজন উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।