পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ফুঁসছে দেশ। এবার কঠোর শাস্তি চেয়ে মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

শুক্রবার (২২ মে) ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি লেখেন, “রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর জন্য মানুষের দুনিয়ায় কোনো শাস্তিই যথেষ্ট নয়। তবে অন্তত এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে অপরাধীরা ভয় পায় আর মানুষের মনে কিছুটা শান্তি আসে।”

তার প্রস্তাব—“শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীর শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্যে একশত দোররা; এরপর অপরাধী বেঁচে থাকলে ফাঁসি। শুধু নিভৃতে ফাঁসি দিলে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।”

আসিফ নজরুল বলেন, শিশু ধর্ষণের বিচার দ্রুত শেষ করা আরও জরুরি। আছিয়া ধর্ষণ মামলায় আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আইন সংশোধন হয়েছিল, আলাদা ট্রাইব্যুনাল হয়েছিল। বিচারিক আদালতে ৬ কার্যদিবসে বিচার শেষ হলেও সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

“রামিসা হত্যার বিচারিক আদালতের রায় হয়তো দ্রুত হবে। কিন্তু এরপর হাইকোর্ট, আপিল বিভাগে গেলে অসহনীয় দীর্ঘ সময় লাগে,” লেখেন তিনি।

সমাধান হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আসিফ নজরুল। “প্রধান বিচারপতি চাইলে হাইকোর্টের এক-দুটি নির্দিষ্ট বেঞ্চকে শুধু শিশু ধর্ষণ মামলার আপিল শুনানির দায়িত্ব দিতে পারেন। আপিল বিভাগে প্রয়োজনে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে, এমনকি শনিবারেও দ্রুত শুনানি করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না। ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও রায় নিশ্চিত করতে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মাদক ও পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে।”

যা ঘটেছিল: গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে রামিসাকে কৌশলে রুমে নেয় অভিযুক্ত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মা খুঁজতে গিয়ে সোহেলের রুমের সামনে মেয়ের জুতা দেখেন। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে মেঝেতে মস্তকবিহীন মরদেহ আর বালতিতে মাথা পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানায়, তার স্বামী সোহেল রামিসাকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করে, গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করতে মাথা কাটে, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে, দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে রাখে। পরে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালায়।

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা মামলা করেন। সোহেল ও স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (২০ মে) রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে রামিসার জানাজা হয়।