রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় আসামির পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান শুক্রবার (২২ মে) সকালে ফেসবুকে এক পোস্টে এ সিদ্ধান্ত জানান।
তিনি লেখেন, ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না রামিসাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য মেয়েকে খুঁজতে থাকেন রামিসার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতিতে মাথা পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানায়, তার স্বামী সোহেল রামিসাকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করতে মাথা কাটে। যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ খাটের নিচে রাখে। এরপর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক।
এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন।
শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবার ও প্রতিবেশীরা ছুটে গেলেও তার আগেই সোহেল মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার হয়।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে তার জানাজা হয়।