হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন তদারকি ব্যবস্থা ও অনুমতি প্রক্রিয়া চালু করেছে ইরান। নতুন নীতি অনুসারে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের আগে পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমতি নিতে হবে।
বুধবার (২০ মে) নতুন একটি নজরদারি অঞ্চলের সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ইরানের হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, নতুন তদারকি অঞ্চলটি ইরানের কুহ মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণ আল-ফুজাইরাহ পর্যন্ত এবং কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত বিস্তৃত।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত যোগাযোগ ফ্রিকোয়েন্সির আওতায় থাকা সব জাহাজকে কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমের আগে পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমতি নিতে হবে।
এর আগে রয়টার্স জানায়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর জন্য অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর মধ্যে একটি সম্পৃক্ততা নথি জমা দিতে হবে। তাতে নিশ্চিত করতে হবে যে জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জাহাজ চলাচলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফি দেড় লাখ ডলারেরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওমানের সহযোগিতায় কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে তেহরান।
তিনি বলেন, আমরা বহু দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি, যাতে তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে।
সূত্র : শাফাক নিউজ