ইরানের ওপর আবার কোনো উস্কানিমূলক আগ্রাসন হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আরও বড় চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বুধবার (২০ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অতীত সংঘাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে যা আগ্রাসনকারীরা কল্পনাও করতে পারবে না।
মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের পাল্টা হামলায় সর্বশেষ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ৪০ দিনের অভিযানে অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক মার্কিন বিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের তালিকায় আছে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল, একটি এফ-৩৫ লাইটনিং টু, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার, একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জি কমান্ডো টু, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ও একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন।
প্রাথমিক হিসাবে বস্তুগত ক্ষতি প্রায় ২৬০ কোটি ডলার। মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে। উৎপাদন বন্ধ থাকা কিছু প্রযুক্তি নতুন করে বানাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিস্থাপন খরচ ৭০০ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে। ই-৩ সেন্ট্রি হারানোয় বাতিল হওয়া ‘ই-৭ ওয়েজটেইল’ কর্মসূচি চালু করতে হতে পারে, যার খরচ ২৫০ কোটি ডলারের বেশি।
আরাঘচি বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীই বিশ্বের প্রথম সামরিক বাহিনী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। পরবর্তী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের আরও অনেক চমক থাকবে।”
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ইরানে যৌথ হামলা শুরু করলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে তেহরান, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সংকট তৈরি করেছে।