সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই সচিবালয়ের সব বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হলেও বর্তমান সরকার তা আর আইনে পরিণত করেনি। ফলে এই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পাওয়ায় আগের নিয়মেই ফিরে গেছে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো।

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে ‘নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এরপর দীর্ঘ দুই দশক কেটে গেলেও এই নীতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন গ্রেড নিয়ে ক্ষোভের জেরে তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারক হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস করার আদেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এক রায় প্রদান করেন, যা ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়’ নামে পরিচিত।

আপিল বিভাগের ওই রায়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন করা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে রাখা এবং নিম্ন আদালতের বার্ষিক বাজেট সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে প্রণয়নসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

রায়ের প্রায় আট বছর পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ঘোষণা করা হলেও তা মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ২১ সেপ্টেম্বর এক অভিভাষণে তিনি মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ এখতিয়ার বা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বিলোপ না হলে বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে না।

প্রধান বিচারপতির এই প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকার তা আইনে রূপান্তর না করায় আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল সেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়।