কর আদায় না বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে বলে জানিয়েছেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্‌ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কর আদায় না বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় বাড়ালে সরকারের ওপর চাপ বাড়বে। উন্নয়ন বাজেট বাড়াতে হলে রাজস্ব আদায়ও বাড়াতে হবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নতুন চাপ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, সরকারের ঋণ ও উন্নয়ন চাহিদা দুটোই বাড়ছে। আগামী বাজেটে ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে। আইএমএফও বলছে বাংলাদেশ ঋণের চাপে আছে। এ অবস্থায় কর আদায় না বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ালে অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দরকার। বর্তমান কাঠামোয় এটা সম্ভব কি না ভাবতে হবে। ২০১১ সালে রাজস্বে সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, এরপর আর হয়নি। কর আদায় বাড়াতে পরিধি বাড়াতে হবে, কিছু খাতে করহারও কমাতে হতে পারে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও বিশ্লেষণ দরকার।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আলোচক ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জাবির অর্থনীতির অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে জনগণ কত দিচ্ছে আর কত ফেরত পাচ্ছে তার মূল্যায়ন হওয়া উচিত। দুর্নীতির পরিমাপও দরকার। আগামী বাজেটে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণের সুদ দিতে হবে। ঋণনির্ভরতা কমাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং চুক্তিসহ অন্যান্য চুক্তিতে শুল্কছাড়ের কথা আছে। আসলেই শুল্ক কমবে কি না, অন্য দেশগুলো কী করবে—তার পূর্ণ মূল্যায়ন দরকার।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বরাদ্দ না বাড়িয়ে কোয়ালিটিতে জোর দেওয়া উচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরাদ্দ বাড়লেও বাস্তবায়নে বড় ফারাক দেখা গেছে, মাঝে দুর্নীতি হয়েছে। কোয়ালিটি ঠিক রেখে ব্যয় হলে ঘাটতি কমবে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিদ্যুৎ সমস্যা এখনো আছে। সরকারের বয়স তিন মাস হওয়ায় এখনই দোষ দেওয়া ঠিক নয়। কিছু উন্নতি হয়েছে, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা কমেছে। সামনে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।