ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সহায়তা করা এবং শত্রুতাকে ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ বলে হুশিঁয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক এক গোপন সফরের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালো তেহরান। খবর প্রেস টিভির।
বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, “নেতানিয়াহু এখন জনসমক্ষে তা-ই প্রকাশ করেছেন যা ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগেই আমাদের নেতৃত্বকে জানিয়েছিল।”
তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “ইরানের মহান জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করা একটি বোকামিপূর্ণ বাজি। আর এতে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজেশ করা ক্ষমার অযোগ্য। যারা বিভেদ সৃষ্টির জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে।”
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর শুরু হওয়া সামরিক আগ্রাসনের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন এবং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রয়টার্সের সূত্রমতে, ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তের কাছে আল আইন শহরে এই দুই নেতার মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সমন্বয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ‘গোপন’ হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে।
প্রেস টিভির তথ্যমতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এর জবাবে, ইরান ওই দেশগুলোতে এবং অধিকৃত অঞ্চল জুড়ে কৌশলগত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০টি জোরালো পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে বারবার সতর্ক করে বলেছে, বিদেশি শত্রুদের নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া ওই দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে বরং বিপদ ডেকে আনবে।