প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (১৩ মে) তার অফিসকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট এবং নেতৃত্বভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, থাইল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর দিকগুলো সরাসরি দেখে বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রধান শিক্ষক নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং অন্যান্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অনেক বিদ্যালয় ভালো ফল করলেও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা আরও বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে শিক্ষক সংকট ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাব অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার মানোন্নয়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে থাইল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দুই দেশের শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা প্রশাসন পর্যবেক্ষণ এবং নেতৃত্বভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাত উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের শেখার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয় নেতৃত্ব উন্নয়নে যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। থাইল্যান্ড শিক্ষা খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহী এবং বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা জানাতে প্রস্তুত।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং থাইল্যান্ড দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।