চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচটি আস্থা-সৃষ্টিকারী শর্ত দিয়েছে ইরান।

ফার্স নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার (১২ মে) ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানায়, তেহরান এই শর্তগুলোকে আলোচনার জন্য ন্যূনতম গ্যারান্টি হিসেবে দেখছে।

শর্তগুলো হলো: লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া।

ইরান বলছে, যুদ্ধবিরতির পরও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় ওয়াশিংটনের প্রতি অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এই বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাবেই ইরান এই পাঁচ শর্ত দিয়েছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ একতরফা এবং যুদ্ধে ব্যর্থ হওয়া লক্ষ্য আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা ছিল। গত রোববার পাকিস্তানের কাছে পাঠানো ইরানের জবাবকে ট্রাম্প সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উল্লেখ্য, জেনেভায় আলোচনা চলাকালে ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনীর হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হন বলে দাবি ইরানের। একই দিন মিনাবের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হয়। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে ৩৩৮০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী। এই সময়ে ১১৮ চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।

পরে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠক করেন। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এর জবাবে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।