জালাল উদ্দিন বাবু | ঢাকাঃ রাজধানীর বারগুলোতে নৃত্যের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা তোয়াক্কা করছে না নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে উত্তরার ৭ নং সেক্টরের বিএনস ভবনে ‘ক্যাম্প ফায়ার’ (Camp Fire) নামক বারে প্রকাশ্যেই চলছে উদ্দাম নৃত্যের আসর। এমনই এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা ও আইনি বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অবৈধ কার্যক্রম চলছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ক্যাম্প ফায়ার বারে অশ্লীল ড্যান্সের ভিডিও’র প্রমাণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ বারগুলোতে মদ সরবরাহের লাইসেন্স থাকলেও নাচ বা ডিজে পার্টির কোনো অনুমতি নেই। অথচ ‘ক্যাম্প ফায়ার’ বারে নিয়মিত নাচের আসর বসানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেখানে উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই আয়োজন, যা পুরোপুরি বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক আয়োজন সমাজ ও যুবসমাজের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
১. নৈতিক অবক্ষয়: বিনোদনের নামে অবৈধ নৃত্যের আসর তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে এবং নৈতিক মূল্যবোধ নষ্ট করছে।
২. অপরাধের বিস্তার: এ ধরনের পরিবেশে খুব সহজেই মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে।
৩. আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা: যখন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করে পার পেয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের শাসন নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
একটি বারে এভাবে অবৈধ নৃত্য চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি নেপথ্যে প্রভাবশালী কোনো মহলের মদদ রয়েছে? নাকি তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।