বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘হাওরে বোরো ধান বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, “নির্বাচনের ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্যচুক্তি করা হলেও বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর মতামত নিয়েই তা করা হয়েছিল।”
“এ কারণে তারা কেউ এখন এ চুক্তির বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। চুক্তি অনুযায়ী চাইলে চুক্তিটি বাতিল ও সংশোধন করা যাবে,” যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সবার দাবি তোলা উচিত, এ চুক্তি নিয়ে যেন সংসদে আলোচনা করা হয়। দাবি করা উচিত, চুক্তিটি অবশ্যই সংসদে উত্থাপন করতে হবে। সেখানে আলোচনা করে জনগণের সম্মতি নিয়ে যেন এটা করা হয়।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড’ (এআরটি) সই হয়। এ নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আজ সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি বাতিল নয়, সরকার সেটি পর্যালোচনা করবে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি এই ইস্যুতে কথা বলেছি। আমরা সরকারের মধ্যেও এই চুক্তি নিয়ে কিছু পর্যালোচনা করব। এটা খুবই শক্তিশালী চুক্তি এবং এটা বাতিল করে দেওয়ার প্রভাব কী হতে পারে, নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি।”
চুক্তি বাতিল করার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যাবে। এই চুক্তির মধ্যে আরেকটি শর্ত আছে — দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তনও করা যেতে পারে। আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি, অন্তত পরের যে অপশনটা, পর্যালোচনা করা — আগে আমাদের সরকারি পর্যালোচনা করা।”