মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার (১১ মে) এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.২০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯.৩০ ডলারে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা চেয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইরানের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
অন্যদিকে, অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করার শর্ত ছিল।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফাও বেড়েছে। সৌদি আরবের আরামকো জানিয়েছে, তাদের আয় গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিটিশ কোম্পানি বিপি ও শেলও চলতি বছরে মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হতে পারে।