মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের ভিত্তি, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়—সমগ্র জাতির সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

বুধবার (৬ মে) মুন্সীগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরে চেতনাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। যার যে অবদান, তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে জনগণের সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।

স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। অতীতে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে এবং হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, তারা ইতিহাসের বিচারে চিহ্নিত। এসব শক্তি বিভিন্ন সময় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে।

তিনি জানান, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে। তবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে অনেকেই সুবিধা নিয়েছেন, এমনকি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা হলেও দুইটির মধ্যে তুলনা করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সশস্ত্র যুদ্ধ, আর সাম্প্রতিক আন্দোলন ছিল গণআন্দোলন।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বীর নিবাস প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। জটিল রোগে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা রয়েছে। বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আনা হবে।

মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ কামরুজ্জামান রতন এমপি, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান, অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম পিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।