আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুনান, চীনঃ চীনের হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি কারখানায় স্মরণীয় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও ৬১ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে লিউয়াং শহরের হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৫০০ কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে অত্যাধুনিক রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় দ্বিতীয় দফা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারখানার ভেতরে থাকা দুটি গানপাউডার গুদাম মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করায় ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সব বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ড বা পরবর্তী বিস্ফোরণ রোধে পুরো এলাকা আর্দ্র রাখার প্রক্রিয়া চলছে।
বিস্ফোরণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানার কাছাকাছি আবাসিক ভবনগুলোর জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে তাদের বাড়ির জানালার অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম বেঁকে গেছে এবং স্টেইনলেস স্টিলের দরজাও বিকৃত হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট পাথরের টুকরোয় ভরে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। আতঙ্কে অনেক গ্রামবাসী ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দায়ীদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট আতশবাজি কোম্পানিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। লিউইয়াং শহরটি বিশ্বের বৃহত্তম আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও, সেখানে বারবার এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
উল্লেখ্য, চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ নতুন কিছু নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও হুবেই প্রদেশে এক বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।