রাজধানীর তুরাগ এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (২২) দীর্ঘদিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় থানায় অভিযোগ দিয়েও মামলা করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ওই তরুণী।

ভুক্তভোগী সান্ত্বনা ইয়াসমিনের অভিযোগ, প্রায় সাত বছর ধরে সীমান্ত ব্যাংক প্রাইভেট লিমিটেডে কর্মরত আতিকুল ইসলামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সম্প্রতি অসুস্থ বোধ করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তিনি কয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তিনি জানান, বিষয়টি অভিযুক্তকে জানালে প্রথমে সময়ক্ষেপণ করা হয়, পরে তাকে চিনতে অস্বীকার করেন আতিকুল ইসলাম। এমনকি গর্ভপাতের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সান্ত্বনা ইয়াসমিন বলেন, “সে আমাকে বিয়ের কথা বলে সব শেষ করে দিয়েছে। এখন আমি মা হতে চলেছি, আর সে আমাকে অস্বীকার করছে। আমার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনা জানার পর তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে শয্যাশায়ী।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে তুরাগ থানায় গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয় এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিতে অনীহা দেখাচ্ছে এবং বিষয়টি আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এদিকে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজ বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে ভুক্তভোগী আজ সকালে উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।