ইরানের অবরোধে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ৮৫০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, এই অভিযানে কেউ বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগ করবে।

রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল থেকে অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে হরমুজে এই প্রকল্প শুরু করবে মার্কিন নৌবাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ৩৮ দিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে তেহরান। ইরানি নৌবাহিনীর অবরোধে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের এই রুটে আটকা পড়েছে ৮০০-র বেশি জাহাজ। ট্রাম্পের দাবি, এসব জাহাজের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, ‘অনেক দেশ আমাদের অনুরোধ করেছে তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার করাতে। আমরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছি। হরমুজে আটকা পড়া নিরপরাধ ক্রুদের মুক্ত করতে এবং জাহাজগুলোকে গন্তব্যে পাঠাতে প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরু হচ্ছে।’

ট্রাম্প অভিযানটিকে ‘মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা’ বললেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কড়া। তিনি লিখেন, ‘দিনের পর দিন আটকে থাকায় ক্রুদের খাদ্য ও জরুরি সরবরাহে সংকট হচ্ছে। কিন্তু এই প্রকল্পে কোনো হস্তক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণশক্তি দিয়ে জবাব দেবে।’ তিনি আরও জানান, এলাকা নৌ চলাচলের জন্য নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ফিরবে না।

‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে লিখেছে, আপাতত যুদ্ধজাহাজ দিয়ে সরাসরি পাহারার পরিকল্পনা নেই। জাহাজ চলাচল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেই ট্রাফিক চালু করা হবে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য করিডোর সচল করতে ১০০-র বেশি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ১৫ হাজার সেনা প্রস্তুত আছে।

আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সংযোগকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০% তেল-গ্যাস পরিবহন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এটি বন্ধ করে দিলে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে শত শত কার্গো ও ট্যাংকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের তথ্য বলছে, এখন সেখানে ৮৫০টির বেশি জাহাজ আটকে আছে।

যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।